ধর্মঃ শ্রীজাত
দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা তৃতীয় সেমিস্টারে দুটি বাংলা কবিতা রয়েছে। প্রথম কবিতাটি হল আধুনিক কালের স্বনামধন্য কবি শ্রীজাত-র লেখা ‘ধর্ম’। গঠনের দিক থেকে ‘ধর্ম’ কবিতাটি একটি সনেট। বর্তমান সময়ে যখন ধর্মের নামে মানুষে মানুষে হানাহানি হচ্ছে, সেই অসহিষ্ণু সময়ের প্রেক্ষিতে এই কবিতাটি বেশ তাৎপর্যবহ।

ধর্মঃ মনে রাখার মত তথ্য
ধর্ম কবিতাটি কবি শ্রীজাতর (১৯৭৫) লেখা ‘অন্ধকার লেখাগুচ্ছ‘ (২০১৫) কাব্য সংকলনের চতুর্দশ সংখ্যক কবিতা।
আলোচ্য কবিতায় কবি ধর্মের প্রকৃত স্বরূপ অর্থাৎ ধর্ম কেমন হওয়া উচিত এবং বাস্তবে মানুষের ধর্মাচরণ কতোটা বিপরীতধর্মী- সেকথাই তুলে ধরেছেন।
১৪ টি পংক্তিতে বিন্যস্ত কবিতাটির প্রথম আটটি স্তবকে ৬ জন বিশ্ববিখ্যাত মানুষ (যথাক্রমে, আব্দুল করিম খাঁ, আইনস্টাইন, কবীর, ভ্যান গঘ, গার্সিয়া লোরকা এবং লেনিন) এবং ২টি প্রাকৃতিক জিনিসের (বাতাস এবং আগুন) ধর্মের উল্লেখ রয়েছে।
আব্দুল কারিম খাঁ (১৮৭২- ১৯৩৭) ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীতের একজন উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক। সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সঙ্গীতের সাধনাই ছিল তাঁর ধর্ম।
আপেক্ষিকতাবাদের জনক অ্যালবার্ট আইনস্টাইন (১৮৭৯- ১৯৫৫) ছিলেন একজন জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী যিনি ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। অজানাকে জানার মাধ্যমে যে “দিগন্ত পেরনোর” প্রয়াস থাকে, সেই বিজ্ঞান সাধনাই ছিল আইনস্টাইনের ধর্ম।
কবীর ছিলেন মধ্যযুগের একজন সন্ত যিনি ধর্মীয় গোঁড়ামির সমালোচনা করে মানবতার জয়গান গেয়েছিলেন। তাঁর লেখা কবিতাগুলি দোহা নামে পরিচিত।
ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ (১৮৫৩-১৮৯০) ছিলেন একজন ওলন্দাজ চিত্রশিল্পী।
ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা (১৮৯৮-১৯৩৬) ছিলেন একজন স্প্যানিশ কবি ও নাট্যকার।
লেনিন (প্রকৃত নাম ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ, ১৮৭০-১৯২৪) ছিলেন রুশ বিপ্লবের অন্যতম প্রাণপুরুষ। কবি বলেছেন, “লেনিনের ধর্ম ছিল নতুন পতাকা”। এর অর্থ হল, ব্যক্তিগত মালিকানা-ভিত্তিক পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তে লেনিন সোভিয়েত রাশিয়ার সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বাতাস এবং আগুন হল পঞ্চভূতের অন্যতম দুই উপাদান যা দিয়ে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে। পঞ্চভূত বলতে বোঝায় ক্ষিতি (পৃথিবী), অপ (জল), তেজ (অগ্নি), মরুৎ (বায়ু), ব্যোম (আকাশ)। কবি বলেছেন, বাতাসের ধর্ম হল কখনো না থামা অর্থাৎ বাতাস সর্বদা প্রবাহমান। আর আগুন হল সর্বগ্রাসী, অর্থাৎ যা কিছু আগুনের সংস্পর্শে আসে তা ভস্মে পরিণত হয়।
কবিতার শেষ অংশে কবি বলেছেন, পৃথিবীতে এত এত ধর্ম কিন্তু কেউ কারো পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। কিন্তু ধর্মাচরণ যখন হয়ে দাঁড়ায় দখলদারি (অন্য ধর্মের উপর হস্তক্ষেপ বা আক্রমণ), তখন সেটা আর ধর্ম থাকে না, হয়ে যায় প্রাতিষ্ঠানিকতা (ধর্মান্ধতা বা গোঁড়ামি)।
দ্বাদশ শ্রেণির অন্যান্য পাঠঃ